ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাতক্ষীরায়। নিহতদের মধ্যে জেলার দুই বাসিন্দা রয়েছেন—সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার মো. আলিমুজ্জামান সাজু এবং কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় সাতক্ষীরার পলাশপোল, বরেয়া ও কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে শোকের মাতম। নিহতদের স্বজনরা এখন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আশায় প্রহর গুনছেন।
নিহত মো. আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার সেটেলমেন্ট অফিস সংলগ্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে। সাজু সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীর খালাতো ভাই।
নিহতের আরেক খালাতো ভাই তাহমিদ শাহেদ চয়ন জানান, সাজু চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথে ঘটনার দিন তিনি কলকাতার ওই হোটেলে ওঠেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে হোটেলটির চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, বাইরে থেকে আগুনের শিখা তেমন দেখা না গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো হোটেল ও আশপাশের এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। হোটেলটির যাতায়াতের পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় ভেতরে থাকা অতিথিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
পরবর্তীতে হোটেল থেকে অন্তত ৬০ জনকে আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
একই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাতক্ষীরার আরেক বাসিন্দা রেবতী সরকার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক ভবেশ সরকারের স্ত্রী। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের জননী। স্থানীয় প্রতিবেশী বিক্রমজিৎ সরকার জানান, রেবতী সরকারও চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের একটি এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস অফিসের মাত্র এক ভবন পরেই হোটেলটির অবস্থান হলেও সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, সাজু ও রেবতী সরকারের মৃত্যুর সংবাদ সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর থেকেই তাঁদের স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের মাতম। সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল, কালীগঞ্জের বরেয়া ও তেঁতুলিয়া গ্রামে এখন শুধুই কান্নার আহাজারি। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।
বিদেশের মাটিতে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে দুই সাতক্ষীরাবাসীর মৃত্যুতে জেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।