সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটুলঘাটা থানার মাহমুদপুর শেখপাড়া ঈদগাঁহের সামনে সুদের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা ও জোরপূর্বক ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শেখ হাফিজুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তি। তিনি মৃত শেখ রুহুল আমিনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পূর্ব শত্রুতা ও চক্রবৃদ্ধি সুদের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে হাফিজুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— আনিসুর জামান, শাহজামাল, মফিদুল জামান, আরিফুল ইসলাম ও আসাদুল জামান। তারা সবাই একই গ্রামের শেখ আলাউদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে টাকা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্যভাবে একটি মীমাংসা হয়েছিল। কুমিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মিঠুন সরদার জানান, “কয়েক মাস আগে আলম মাস্টারসহ আমরা কয়েকজন গ্রামবাসী বিষয়টি নিয়ে বসেছিলাম। তখন একটি সমাধান হয়েছিল। সেই জের ধরেই আজকের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি।”
স্থানীয় শিক্ষক মোঃ ইফতেখারুল আলম মাস্টার বলেন, “আনিসুরের সঙ্গে টাকার বিষয় নিয়ে আমরা আগে বসে সমাধান করেছি। দেনাপাওনাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপরও কেন হঠাৎ করে হামলার ঘটনা ঘটলো বুঝতে পারছি না।”
হামলার শিকার শেখ হাফিজুর রহমান জানান, “আমাদের এলাকার কথিত সুদের ব্যবসায়ী আনিসুর জামানের সঙ্গে আমার আর্থিক লেনদেন ছিল। আমি তার টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও সে চক্রবৃদ্ধি সুদের হিসাব করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। পরে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং আলম মাস্টারের মাধ্যমে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু আজ হঠাৎ করে তারা কয়েকজন মিলে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি চাউলের ডিলার। এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ধান কেনার উদ্দেশ্যে আমার কাছে ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিল। তারা আমাকে মারধর করে জোরপূর্বক ওই টাকা নিয়ে নেয়।”
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পল্লী চিকিৎসক আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সুদের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে সুদে টাকা দিয়ে পরে চক্রবৃদ্ধি সুদের হিসাব দেখিয়ে আর্থিকভাবে চাপে ফেলেন এবং নানা উপায়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। এলাকাবাসীর কেউ কেউ অভিযোগ করেন, এর আগেও একাধিক ব্যক্তি তার এমন কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনিসুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।