
শারীরিক দুর্বলতার রোগীকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা! তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এক রোগীকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খাদিজা বেগম নামের ওই রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে এমবিবিএস চিকিৎসক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে চিকিৎসা দেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রাইহান। এ ঘটনায় চিকিৎসাসেবার মান ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খাদিজা বেগম তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী হারুন খান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর মেয়েকে নিয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন খাদিজা বেগম। সেখানে হঠাৎ শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে তিনি বাথরুমে পড়ে যান। পরে তাঁকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রাইহান চিকিৎসা দেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
তাঁদের দাবি, রোগীর শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গ বিবেচনায় যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তাঁকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা সেখানে না গিয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের দাবি, পরবর্তী সময়ে একজন নার্স বিষয়টি জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের নজরে আনেন। এরপর চিকিৎসা নেওয়ার পর খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সেকমো রাইহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভুল হয়েছিল, পরে ঠিক করে দিয়েছি।” উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমন চিকিৎসা অনেক দিয়েছি।”
এদিকে, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রাইহান ভর্তি রোগীর চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, তা জানি না। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে এমবিবিএস চিকিৎসক উপস্থিত থাকার পরও কেন সেকমো রোগীকে চিকিৎসা দিলেন এবং রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।