
বিভিন্ন আর্থিক ও দাপ্তরিক অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত তালা উপজেলা বিআরডিবির পরিদর্শক মো. নাজমুল হোসেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তার নির্মাণাধীন বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সেসব অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় এখন তার সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এর আগে কৃষক সমবায় সমিতির সদস্যদের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ, সদস্যদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ যথাসময়ে ব্যাংকে জমা না দেওয়া, দাপ্তরিক দায়িত্বে অনিয়ম এবং দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি নির্মাণাধীন একটি বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তার পরিচিত আয়ের সঙ্গে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সামঞ্জস্য কতটুকু। তবে বাড়িটি নির্মাণে ব্যবহৃত অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতীতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পাশাপাশি সম্পদের উৎস সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই হওয়া উচিত। তাদের মতে, একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা হলে সব ধরনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে।
স্থানীয়দের একাংশ আরও জানান, এ ধরনের সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মতো দায়িত্বশীল সংস্থার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছভাবে সামনে আসবে এবং জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোরও সুরাহা হবে।
এ বিষয়ে বিআরডিবির আরেকজন পরিদর্শক (মূল) সম্রাট চক্রবর্ত্তী বলেন, “নাজমুল দাদন ব্যবসা করে। এছাড়া অফিসে আমাদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানিমূলক আচরণ করে।”
তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ বিষয়ে নাজমুল হোসেনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চলবে… (পর্ব–৩ এ থাকছে: সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, অভিযোগের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য)।
ডেক্স রিপোর্ট 













