
মহালয়া মানেই দেবীপক্ষের সূচনা। মহালয়ার ভোরে বাঙালির হৃদয়ে দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা পৌঁছে দেয় কিংবদন্তি বাচিকশিল্পী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কালজয়ী কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। তাঁর কণ্ঠ ছাড়া যেন বাঙালির মহালয়ার আবহই অপূর্ণ। অথচ এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের পৈতৃক শেকড় বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার উথালী গ্রামে যা অনেকের কাছেই অজানা।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বাবা কমলকৃষ্ণ ভদ্র কর্মসূত্রে উত্তর কলকাতায় স্থায়ী হন। তবে সাতক্ষীরার সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সম্পর্ক ছিল গভীর। শেকড়ের টানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রও তালার উথালী গ্রামে যাতায়াত করতেন বলে জানা যায়। দেশভাগের আগ পর্যন্ত এই অঞ্চলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র শুধু চণ্ডীপাঠের জন্যই বিখ্যাত ছিলেন না; নাটক রচনা, নাট্য পরিচালনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও ছিল তাঁর বিশেষ অবদান। তাঁর অসাধারণ কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ আজও দুই বাংলার বাঙালির কাছে দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালার উথালী গ্রামে রয়েছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পৈতৃক ভিটা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত দুর্গামন্দির। এই স্থাপনাগুলো তাঁর পারিবারিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে বিবেচিত।
মহালয়ার প্রাক্কালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পৈতৃক ভিটা ও দুর্গামন্দির আবারও আলোচনায় এসেছে। গতবছর অক্টোবরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী রাজেশ রায়না সপরিবারে তাঁর পৈতৃক ভিটা ও প্রতিষ্ঠিত দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান সংরক্ষণ করা গেলে তা দুই বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এই কিংবদন্তি বাচিকশিল্পীর সঙ্গে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক যোগসূত্রের কথা।
মহালয়ার দিনে উথালী গ্রামের এই পৈতৃক ভিটা যেন স্মরণ করিয়ে দেয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের শেকড় কোনো ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়।
শামীম খান 








