
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলীয় এলাকায় খুলনা বিভাগের ভিতরে সবথেকে উচ্চতা এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ব্যতিক্রমী এক মহা আয়োজন। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ১৭ হাত বা ২৫ ফুট উচ্চতার বিশাল দুর্গা প্রতিমা। একই সঙ্গে পুরাণের মহাকাব্যিক কাহিনি অবলম্বনে তৈরি করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ও নান্দনিক দৃশ্যপট।
আয়োজকদের দাবি, এবারের দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগ এবং প্রিয়তমা সতীর নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেব শিবের প্রলয়ংকর মহাতাণ্ডবের দৃশ্য। ভক্তি, আবেগ ও শিল্পের সমন্বয়ে পুরাণের সেই হৃদয়স্পর্শী কাহিনি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।
আয়োজকরা জানান, স্বামী মহাদেব শিবের অপমান সহ্য করতে না পেরে সতীর দেহত্যাগ, এরপর সতীর নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে শিবের মহাতাণ্ডব এবং বিশ্ব রক্ষায় ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের মাধ্যমে সতীর দেহ খণ্ডিত হওয়ার পৌরাণিক কাহিনি দৃশ্যপটে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি থাকবে ব্রহ্মা, দেবরাজ ইন্দ্র ও নারদের প্রার্থনার দৃশ্য।
এছাড়াও বীরভদ্রের আবির্ভাব, দক্ষযজ্ঞ ধ্বংস এবং প্রজাপতি দক্ষের করুণ পরিণতি-সহ পৌরাণিক কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অংশ থাকবে এই আয়োজনের দৃশ্যপটে।
মাটি ও আধুনিক ফাইবার প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল প্রতিমা ও দৃশ্যপট। বিশেষ রং, রাজকীয় পোশাক, দৃষ্টিনন্দন গহনা ও নান্দনিক সাজসজ্জার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে পৌরাণিক কাহিনির বিভিন্ন চরিত্র।
গত বছরও দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার ভগবান শ্রীবিষ্ণুর বিশ্বরূপ তৈরি করে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় পরিসরে ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সতীর বেদনা, শিবের ভালোবাসা ও মহাতাণ্ডবের মহাকাব্যিক উপস্থাপনা দেখতে শারদীয় দুর্গোৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসবেন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা ও পৌরাণিক দৃশ্যপট দেখতে দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবু প্রসাদ বৈদ্য জানান, দর্শনার্থীদের জন্য এবারের আয়োজনকে আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
জহর হাসান সাগর 








