Dhaka ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান!ওটি ও প্যাথলজি সিলগালা, ম্যানেজারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ তালায় পুকুরের পানিতে ডুবে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু পাটকেলঘাটায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত তালা রত্না জুয়েলার্সে রাতের আঁধারে চুরি, খোয়া গেছে বিপুল স্বর্ণালংকার তালার আগোলঝাড়ায় হাডুডু খেলায় প্রধান অতিথি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউল ইসলাম রেজা সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিট গঠন তালায় আনন্দ র‍্যালি অনুষ্ঠিত। ন্যাম ভবন থেকে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার তালা বাজার বণিক সমিতির আয়োজনে ৪ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত তালা সদর ইউনিয়ন নির্বাচন ঘিরে রেজাউল ইসলাম রেজার গণসংযোগ

সাতক্ষীরায় স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান!ওটি ও প্যাথলজি সিলগালা, ম্যানেজারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

  • ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেটের সময়: ০৭:১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৩ সময় দেখুন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত স্বাগতা ক্লিনিকে ভুয়া প্যাথলজিস্ট দিয়ে ল্যাব পরিচালনা, অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) অনিয়ম এবং হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজি বিভাগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ক্লিনিকের ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, মেডিকেল অফিসার (সিএস) ইসমত জাহান সুমনা এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আশিক নেওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ক্লিনিকটিতে হালনাগাদ কোনো বৈধ লাইসেন্স দেখতে পাননি। এছাড়া সেখানে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক বা ডিপ্লোমাধারী নার্সও পাওয়া যায়নি বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকটির প্যাথলজি বিভাগে কোনো অনুমোদিত প্যাথলজি টেকনিশিয়ান না থাকলেও ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডল নিজেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন এবং রোগীদের রিপোর্ট দিতেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি ল্যাব পরিচালনার বিষয়ে কোনো সরকারি সনদ বা প্রশিক্ষণ নেই বলে স্বীকার করেছেন।

এদিকে অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পান স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, ওটি কক্ষের নির্ধারিত পরিমাপ ঠিক ছিল না এবং সেখানে অ্যানাস্থেসিয়া দেওয়ার প্রয়োজনীয় মেশিনও ছিল না। অস্ত্রোপচারের সময় প্রধান চিকিৎসকের সঙ্গে সহকারী চিকিৎসক থাকার নিয়ম থাকলেও সেখানে নন-মেডিকেল কর্মীদের দিয়ে অপারেশনের কাজ পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এছাড়া অস্ত্রোপচারের পর রোগী বা নবজাতককে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য পৃথক কোনো কক্ষ ছিল না। ওটি রেজিস্টারও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হতো না। এমনকি অস্ত্রোপচারের পর রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে চিকিৎসকের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে।

অভিযান শেষে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, স্বাগতা ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের জীবনঝুঁকির মধ্যে ফেলার মতো গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব কারণে ক্লিনিকটির প্যাথলজি ও অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে ক্লিনিকটিতে শুধু বহির্বিভাগের (আউটডোর) রোগী দেখা ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “ক্লিনিকটিতে স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জীবনঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছিল। আমরা ওটি ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ক্লিনিকের ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান!ওটি ও প্যাথলজি সিলগালা, ম্যানেজারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

সাতক্ষীরায় স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান!ওটি ও প্যাথলজি সিলগালা, ম্যানেজারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

আপডেটের সময়: ০৭:১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত স্বাগতা ক্লিনিকে ভুয়া প্যাথলজিস্ট দিয়ে ল্যাব পরিচালনা, অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) অনিয়ম এবং হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজি বিভাগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ক্লিনিকের ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, মেডিকেল অফিসার (সিএস) ইসমত জাহান সুমনা এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আশিক নেওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ক্লিনিকটিতে হালনাগাদ কোনো বৈধ লাইসেন্স দেখতে পাননি। এছাড়া সেখানে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক বা ডিপ্লোমাধারী নার্সও পাওয়া যায়নি বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকটির প্যাথলজি বিভাগে কোনো অনুমোদিত প্যাথলজি টেকনিশিয়ান না থাকলেও ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডল নিজেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন এবং রোগীদের রিপোর্ট দিতেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি ল্যাব পরিচালনার বিষয়ে কোনো সরকারি সনদ বা প্রশিক্ষণ নেই বলে স্বীকার করেছেন।

এদিকে অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পান স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, ওটি কক্ষের নির্ধারিত পরিমাপ ঠিক ছিল না এবং সেখানে অ্যানাস্থেসিয়া দেওয়ার প্রয়োজনীয় মেশিনও ছিল না। অস্ত্রোপচারের সময় প্রধান চিকিৎসকের সঙ্গে সহকারী চিকিৎসক থাকার নিয়ম থাকলেও সেখানে নন-মেডিকেল কর্মীদের দিয়ে অপারেশনের কাজ পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এছাড়া অস্ত্রোপচারের পর রোগী বা নবজাতককে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য পৃথক কোনো কক্ষ ছিল না। ওটি রেজিস্টারও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হতো না। এমনকি অস্ত্রোপচারের পর রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে চিকিৎসকের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে।

অভিযান শেষে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, স্বাগতা ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের জীবনঝুঁকির মধ্যে ফেলার মতো গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব কারণে ক্লিনিকটির প্যাথলজি ও অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে ক্লিনিকটিতে শুধু বহির্বিভাগের (আউটডোর) রোগী দেখা ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “ক্লিনিকটিতে স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জীবনঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছিল। আমরা ওটি ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ক্লিনিকের ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।