Dhaka ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তালায় মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ নজরুলের ডুমুরিয়ায় দিন দুপুরে বন্দুকধারীদের গুলি, নিহত বিএনপি নেতার ছেলে তালা সদর ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, পুনঃতদন্তের দাবি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মহিলাসহ ৩ জন কারাগারে  যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা শ্যামনগরে দুর্যোগ প্রতিরোধী সম্প্রদায় স্থাপন ইনসেপশন মিটিং অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় ভিডিও কন্টেন তৈরীর আড়ালে চাঁদাবাজী, ব্লাকমেইল, সমালোচিত মামুন গ্রেফতার সাতক্ষীরায় ভারতীয় নাগরিকের মলদ্বার থেকে ৮১৩ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার, আটক ১ শ্যামনগরে বাসের ধাক্কায় ইজিবাইক চালক নিহত খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ শেষে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে বাস উল্টে খাদে, পথচারী নিহত, আহত ২০-২৫

তালায় মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ নজরুলের

  • ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেটের সময়: ০১:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩৬ সময় দেখুন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের নলবুনিয়া মৎস্য ঘের নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ঘের দখল, মাছ লুট, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করেন আব্দুস সাত্তার। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, ঘের কেটে মাছ লুট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলামের দাবি, আব্দুস সাত্তার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করছেন। প্রকৃতপক্ষে আব্দুস সাত্তারই তাঁর মৎস্য ঘের কেটে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রতিবাদ করায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, আব্দুস সাত্তারের কাছে তাঁর নিজস্ব সাড়ে চার বিঘা জমির হারির টাকা বাবদ ৪৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ওই টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে ঘোরাচ্ছেন। এখনো পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেন নজরুল। তাঁর অভিযোগ, জমি ও ঘেরসংক্রান্ত বিরোধ এবং পাওনা টাকা নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে ও এলাকায় দুর্নাম ছড়াতে আব্দুস সাত্তার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নজরুল ইসলামের মৎস্য ঘেরের কর্মচারী ইসাক আলীও এ বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর সামনেই সাত্তার ও তার লোকজন ঘেরের ভেড়ি কেটে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। এ সময় তাঁকেও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।ইসাক আলীর অভিযোগ, আব্দুস সাত্তার নিজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পর উল্টো সংবাদ সম্মেলন করে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে তালা এলাকার একাধিক ব্যক্তির জমি ও মৎস্য ঘেরসংক্রান্ত বিরোধ, ঘেরের হারির টাকা পরিশোধ না করা এবং জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ঘের হারি নেওয়ার টাকা পরিশোধ না করেও বিভিন্ন সম্পত্তি ভোগদখলে রেখেছেন আব্দুস সাত্তার।

অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৫ সালের ২৪ এপ্রিল দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় ‘চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি মামলায় জালিয়াত ও সন্ত্রাসী ছাত্তার জেল হাজতে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আব্দুস সাত্তারের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
নজরুলের আরও অভিযোগ, এর আগে তাঁর মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আব্দুস সাত্তারকে দায়ী করে সাতক্ষীরার আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, জমি ও ঘেরসংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকার চেয়ে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ২০২২ সাল থেকে অদ্যাবধি তফসিলভুক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল এবং ঘেরের হারির টাকা পরিশোধ না করার বিষয় উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নজরুল ইসলামের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের জমি ও ঘেরসংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তাঁকে একতরফাভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে উভয় পক্ষের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নলবুনিয়া মৎস্য ঘেরের জমির মালিকানা, হারির চুক্তি ও মাছ চাষের অধিকার নিয়ে বিরোধের প্রকৃত চিত্র জানতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম।

জনপ্রিয় পোস্ট

তালায় মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ নজরুলের

তালায় মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ নজরুলের

আপডেটের সময়: ০১:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের নলবুনিয়া মৎস্য ঘের নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ঘের দখল, মাছ লুট, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করেন আব্দুস সাত্তার। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, ঘের কেটে মাছ লুট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলামের দাবি, আব্দুস সাত্তার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করছেন। প্রকৃতপক্ষে আব্দুস সাত্তারই তাঁর মৎস্য ঘের কেটে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রতিবাদ করায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, আব্দুস সাত্তারের কাছে তাঁর নিজস্ব সাড়ে চার বিঘা জমির হারির টাকা বাবদ ৪৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ওই টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে ঘোরাচ্ছেন। এখনো পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেন নজরুল। তাঁর অভিযোগ, জমি ও ঘেরসংক্রান্ত বিরোধ এবং পাওনা টাকা নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে ও এলাকায় দুর্নাম ছড়াতে আব্দুস সাত্তার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নজরুল ইসলামের মৎস্য ঘেরের কর্মচারী ইসাক আলীও এ বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর সামনেই সাত্তার ও তার লোকজন ঘেরের ভেড়ি কেটে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। এ সময় তাঁকেও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।ইসাক আলীর অভিযোগ, আব্দুস সাত্তার নিজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পর উল্টো সংবাদ সম্মেলন করে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে তালা এলাকার একাধিক ব্যক্তির জমি ও মৎস্য ঘেরসংক্রান্ত বিরোধ, ঘেরের হারির টাকা পরিশোধ না করা এবং জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ঘের হারি নেওয়ার টাকা পরিশোধ না করেও বিভিন্ন সম্পত্তি ভোগদখলে রেখেছেন আব্দুস সাত্তার।

অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৫ সালের ২৪ এপ্রিল দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় ‘চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি মামলায় জালিয়াত ও সন্ত্রাসী ছাত্তার জেল হাজতে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আব্দুস সাত্তারের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
নজরুলের আরও অভিযোগ, এর আগে তাঁর মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আব্দুস সাত্তারকে দায়ী করে সাতক্ষীরার আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, জমি ও ঘেরসংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকার চেয়ে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ২০২২ সাল থেকে অদ্যাবধি তফসিলভুক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল এবং ঘেরের হারির টাকা পরিশোধ না করার বিষয় উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নজরুল ইসলামের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের জমি ও ঘেরসংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তাঁকে একতরফাভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে উভয় পক্ষের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নলবুনিয়া মৎস্য ঘেরের জমির মালিকানা, হারির চুক্তি ও মাছ চাষের অধিকার নিয়ে বিরোধের প্রকৃত চিত্র জানতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম।