Dhaka ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চাকরি দেওয়ার নামে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তালার আলোচিত শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সাতক্ষীরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু, আহত অন্তত ১০ তালা ৯ নম্বর সিটি ক্লাবকে ফুটবল উপহার দিলেন মহিবুল্লাহ মহিব হাজী কল্যাণ সংস্থা সাতক্ষীরার বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত: সমাজ গঠনে হজ্জের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান সরকারি ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে ধূমপানের অভিযোগ নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে তালায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, যুবক আটক কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৯ বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার ২ জন দলুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব হাজরাকাটি মডেল কমিউনিটি ক্লিনিকের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে ইউপি চেয়ারমম্যান তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবনে প্রথম মিটিং অনুষ্ঠিত

চাকরি দেওয়ার নামে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তালার আলোচিত শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

  • জহর হাসান সাগর
  • আপডেটের সময়: ০৮:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৬৩ সময় দেখুন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের রনজিত কুমার দাসের কাছ থেকে ছেলেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নগদ ৬ লাখ টাকা গ্রহণের পর তা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বহুল আলোচিত সিআর মামলার আসামি ইষ্টুম কুমার দাস ও তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী দাসের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রনজিত কুমার দাস বাদী হয়ে সাতক্ষীরার আদালতে সিআর ৩০৩/২০২৪ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আসামি ইষ্টুম কুমার দাস ও তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী দাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
বাদীপক্ষের দাবি, মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযোগের সত্যতা পায়। এছাড়াও মামলার প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষ রনজিত কুমার দাসের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ইষ্টুম কুমার দাস ও তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী দাসের বিরুদ্ধে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগে আরও প্রায় ১৫টি মামলা চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একের পর এক প্রতারণার অভিযোগে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিক্ষক যদি চাকরি দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে সমাজ ও শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে কী ধরনের নৈতিক শিক্ষা আশা করবে?
এদিকে, অভিযুক্ত ইষ্টুম কুমার দাসের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসে একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এতসব অভিযোগ ও মামলার পরও শিক্ষা অফিস থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এলাকাবাসী ও তালা উপজেলার সচেতন মহল দ্রুত গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা বিভাগকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইষ্টুম কুমার দাস ও অঞ্জলী রানী দাসের বক্তব্য নিতে তাদের বাসায় গেলে তাদের বাসায় পাওয়া যায় নাই।

জনপ্রিয় পোস্ট

চাকরি দেওয়ার নামে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তালার আলোচিত শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চাকরি দেওয়ার নামে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তালার আলোচিত শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আপডেটের সময়: ০৮:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের রনজিত কুমার দাসের কাছ থেকে ছেলেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নগদ ৬ লাখ টাকা গ্রহণের পর তা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বহুল আলোচিত সিআর মামলার আসামি ইষ্টুম কুমার দাস ও তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী দাসের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রনজিত কুমার দাস বাদী হয়ে সাতক্ষীরার আদালতে সিআর ৩০৩/২০২৪ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আসামি ইষ্টুম কুমার দাস ও তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী দাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
বাদীপক্ষের দাবি, মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযোগের সত্যতা পায়। এছাড়াও মামলার প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষ রনজিত কুমার দাসের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ইষ্টুম কুমার দাস ও তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী দাসের বিরুদ্ধে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগে আরও প্রায় ১৫টি মামলা চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একের পর এক প্রতারণার অভিযোগে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিক্ষক যদি চাকরি দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে সমাজ ও শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে কী ধরনের নৈতিক শিক্ষা আশা করবে?
এদিকে, অভিযুক্ত ইষ্টুম কুমার দাসের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসে একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এতসব অভিযোগ ও মামলার পরও শিক্ষা অফিস থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এলাকাবাসী ও তালা উপজেলার সচেতন মহল দ্রুত গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা বিভাগকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইষ্টুম কুমার দাস ও অঞ্জলী রানী দাসের বক্তব্য নিতে তাদের বাসায় গেলে তাদের বাসায় পাওয়া যায় নাই।