
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাদা (ফাঁকা) নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মির্জাপুর গ্রামের মোনতাজ সরদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বারাত গ্রামের উজ্জ্বল দাশ আতঙ্কে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী উজ্জ্বল দাশ জানান, কয়েক বছর আগে মোনতাজ সরদার তার ঘেরের মাটি ক্রয় করেন। ওই মাটির মূল্য বাবদ তার কাছে কিছু টাকা পাওনা রয়েছে। পাওনা টাকা চাইতে গেলে মোনতাজ সরদার তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “তোকে দেখে নেব।” এরপর থেকে ভয়ে তিনি আর টাকা দাবি করেননি।
উজ্জ্বল দাশের অভিযোগ, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে মোনতাজ সরদার তাকে মির্জাপুর বাজারে ডেকে নেন। সেখানে লোকজনের উপস্থিতিতে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি ব্ল্যাংক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বলেন। তিনি রাজি না হলে তাকে বাজার থেকে মোস্তফার ঘেরের পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির উপস্থিতিতে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে তিনি স্ট্যাম্পগুলোতে স্বাক্ষর করেন। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
উজ্জ্বল দাশ আরও দাবি করেন, মোনতাজ সরদার দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তার ধারণা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোনতাজ সরদার বলেন, “উজ্জ্বল দাশের সঙ্গে আমার একটি আর্থিক লেনদেন রয়েছে।” তবে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শামীম খান 








