
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলে, এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধা শ্যামনগর থানায় ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে উপজেলার কলবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগম (৭২)কে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসি ইসলাম ঝর্ণা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। শুক্রবার রাতে পারিবারিক একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে তার মুখে সজোরে লাথি মারেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে আফতাবুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। একই বাড়িতে বসবাসের সুযোগ নিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছিলেন। শুক্রবারের ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা আহত আনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসা শেষে শুক্রবার রাতেই তিনি শ্যামনগর থানায় ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। অভিযুক্তের সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 



















