
একাধিক আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সমবায় সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তালা ইউসিসিএ লিমিটেডের পরিদর্শক মো. নাজমুল হোসেন এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্রে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অফিস সূত্রে পূর্বের প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, তাালা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিদর্শক নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—কৃষক সমবায় সমিতির সদস্যদের ঋণ প্রদানের নামে অর্থ গ্রহণ, সদস্যদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা যথাসময়ে ব্যাংকে জমা না দেওয়া, দাপ্তরিক দায়িত্বে অনিয়ম এবং দীর্ঘ সময় বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা।
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সমবায় সমিতির সদস্যরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়।
পরবর্তীতে জারি করা আরেকটি অফিস আদেশে তাকে শর্তসাপেক্ষে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম, অননুমোদিত লেনদেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য বা সমিতির ক্ষতিসাধনমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নথিতে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? অভিযোগগুলোর তদন্তে প্রকৃত সত্যতা কতটুকু পাওয়া গেছে? আর যদি অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি এখনো কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন?
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা, যাতে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের স্বচ্ছ জবাব মেলে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. নাজমুল হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চলবে… (পর্ব–২ এ থাকছে: অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, ‘গায়েবী ফাইল’ তৈরির মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধানী চিত্র)
ডেক্স রিপোর্ট 











