
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) নারায়ণ চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিআরডিবিতে অনিয়ম ও বিধি-বিধান লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা বন্ধ রয়েছে, উদ্যোক্তা ঋণ বিতরণে অনিয়ম বেড়েছে এবং কিস্তি খেলাপির হারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে বিআরডিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান পরিচালক আব্দুল্লাহ গোলদার বলেন, নারায়ণ চন্দ্র সরকার যোগদানের পর থেকে নিয়মিত মাসিক সভা কার্যত বন্ধ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সভা না হলেও সভা বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। মাঝে মধ্যে দুই-একটি সভা হলেও সেখানে কমিটির সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করা হয় না। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা সদস্যদের না জানিয়েই উপস্থাপন বা নিষ্পত্তি করা হয়, যা বিআরডিবির বিধি-বিধানের পরিপন্থী।
এনায়েতপুর-১ সমিতির ঋণ কার্যক্রমে সরকারের নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তার দাবি, প্রয়োজনীয় পাসবই, সভার রেজুলেশন, সদস্যদের শেয়ার ও সঞ্চয় জমাসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করেই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া তাকে অবহিত না করেই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং পূর্বে নেওয়া তার স্বাক্ষরের কপি ব্যবহার করে নথিপত্র প্রস্তুতেরও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, উদ্যোক্তা ঋণের রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেননি। ফলে এসব ঋণের একটি বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণ আদায় না হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা উদ্যোক্তা ঋণ তহবিলের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র সরকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগের বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
শামীম খান 


















