
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দা তাসকিন আহমেদ তুহিন, মৃত আক্কাস আলীর ছেলে এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের একটি ইউনিটে কর্মরত বলে দাবি করা এক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গোপনে বিয়ে করে স্ত্রীকে স্বীকৃতি না দেওয়া, প্রতারণা এবং পরবর্তীতে আরেক তরুণীকে বাড়িতে নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী, যিনি নিজেকে তুহিনের বৈধ স্ত্রী বলে দাবি করছেন, জানান—প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে তুহিন তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের পর তুহিন তাকে আশ্বাস দেন, চাকরির বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি (অর্ডার) পেলেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে নেবেন। সেই আশ্বাসে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও তাকে শ্বশুরবাড়িতে তোলা হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে তুহিনকে তার নিজ বাড়িতে আরেক তরুণীর সঙ্গে দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। এ সময় এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ওই তরুণীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে একই দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী তার মা, মামা ও মামীসহ স্বজনদের নিয়ে তুহিনের নেহালপুর গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি নিজেকে তুহিনের বৈধ স্ত্রী দাবি করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান এবং তার প্রতি হওয়া প্রতারণার বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে তুহিন তার সঙ্গে অশোভন ও অপমানজনক আচরণ করতেন। এ ধরনের আচরণের অডিও রেকর্ড তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ঘটনার পর অভিযুক্তের আরও কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে তোলা কিছু ছবিও তাদের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তুহিনের সৎ বাবা ফারুক বলেন, “তুহিন আরেকটি মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। ওই মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু আমরা তাকে জানিয়ে দিয়েছি, তুহিনের আগে থেকেই একজন স্ত্রী রয়েছে। তাই তাকে আমরা পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে পারব না।”
তুহিনের মাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, তার ছেলে আগে থেকেই বিবাহিত। তাই অন্য কোনো মেয়েকে পরিবারের পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তাসকিন আহমেদ তুহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।”
প্রতিবেদকের নোট: প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব অভিযোগ অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তার ফলাফলের ওপর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে।
ডেক্স রিপোর্ট 








