রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় শিশুটির মা বাইরে ফ্ল্যাটের দরজায় নক করছিলেন, আর ভেতরে চলছিল নির্মম হত্যাকাণ্ড।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা দ্রুত মরদেহ গুম করার চেষ্টা করে। রক্তক্ষরণ বা ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হলেও মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। পুলিশের ধারণা, তিনি বিকৃত মানসিকতার অধিকারী হতে পারেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে শিশুটির সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে চূড়ান্ত সত্য ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন, আর নিহত শিশুর পরিবার একই ভবনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল। ঘটনার সময় শিশুটির মা দরজার বাইরে নক করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না মেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিবেদকের নাম 










