Dhaka ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ডুমুরিয়ার দুই মণ্ডপে ৩৫৩ প্রতিমা, দুর্গোৎসব ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ তালায় মাছ চুরির সন্দেহে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, নিহত ক্ষিতেশ মণ্ডল শ্যামনগরে জমি বিরোধের জেরে কাকিকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১ তালায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে জাল সনদ দেওয়ার অভিযোগ শ্যামনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৭১টি মন্ডপে বিএনপি’র শুভেচ্ছা উপহার প্রদান সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা তালায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে নিয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, নিন্দা তালায় এ-প্লাসপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ছাত্রশিবির বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের শেকড় সাতক্ষীরার তালার উথালী গ্রামে, মহালয়ায় আলোচনায় পৈতৃক ভিটা মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে যুবকদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

ডুমুরিয়ার দুই মণ্ডপে ৩৫৩ প্রতিমা, দুর্গোৎসব ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের পাশাপাশি দুটি গ্রামে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে ৩৫৩টি প্রতিমা। মাত্র আধা কিলোমিটারের ব্যবধানে অবস্থিত দুটি মণ্ডপে বিপুলসংখ্যক প্রতিমা নির্মাণকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রুদাঘরা ইউনিয়নের খরসংগ গ্রামের শতবর্ষী খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে তৈরি করা হয়েছে ২০১টি প্রতিমা। অন্যদিকে, ওই মন্দির থেকে আধা কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে মিকশিমিল বাজারসংলগ্ন খরসংগ মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে তৈরি করা হয়েছে ১৫২টি প্রতিমা। এ মন্দিরে এবার ৫২তম দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হচ্ছে।

দুটি মণ্ডপে প্রতিমার সংখ্যা ও পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। প্রতিমা দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন।

গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, আলোকসজ্জিত মণ্ডপে প্রতিমাশিল্পীরা রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত। প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

সেখানে উপস্থিত স্কুলশিক্ষার্থী তৃপ্তি রায়, চৈতি রায় ও তপতি চৌধুরী জানায়, স্কুলে যাওয়ার আগেই তারা দুই মন্দিরের প্রতিমা দেখতে এসেছে। সাহাপাড়া মন্দিরের প্রবেশপথে বড় হনুমান এবং রাম-লক্ষ্মণ-সীতার প্রতিমা তাদের ভালো লেগেছে। অন্যদিকে, খরসংগ মন্দিরের বকাসুর বধ ও গোপাল ভাঁড়-মন্ত্রীসহ বিভিন্ন চরিত্রের প্রতিমাও তাদের আকৃষ্ট করেছে।

জানা গেছে, গত চার মাস ধরে মন্দির দুটিতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। সাতক্ষীরার ঘোষনগর গ্রামের প্রতিমাশিল্পী শিমুল দাস (৩৫) সাড়ে তিন লাখ টাকা পারিশ্রমিকে সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রতিমাশিল্পী অভিলাষ মণ্ডল (৩০) একই পরিমাণ পারিশ্রমিকে খরসংগ মন্দিরে তৈরি করেছেন ২০১টি প্রতিমা। এখনো রং করার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনির বিভিন্ন ঘটনা প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপ দুটিতে। সাহাপাড়া মন্দিরে মা দুর্গার নয়টি রূপ, রথযাত্রা, রাম-সীতা, ভগীরথের সাত পুত্রের পুনর্জন্ম, রক্তবীজ, মা কালীর বিভিন্ন কাহিনি, শিব, সরস্বতী, শ্রীকৃষ্ণ ও বড় হনুমানের প্রতিমা স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, খরসংগ মন্দিরে ভীষ্মের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের অস্ত্র ধারণ, দক্ষযজ্ঞ, সত্যবানের মৃত্যু, ভীষ্মের রাক্ষস বধ, অর্জুন ও নাগকন্যা, রাজা হরিশচন্দ্রের শ্মশানঘাট, ভগীরথের গঙ্গা আনয়ন, শ্রীকৃষ্ণের বকাসুর বধ এবং রামের সীতা উদ্ধারের মতো পৌরাণিক ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে।

খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার বলেন, “বিষয়টিকে প্রতিযোগিতা বা হিংসার দৃষ্টিতে দেখার কিছু নেই। বরং একই ইউনিয়নের কাছাকাছি দুটি মণ্ডপে এত বেশি প্রতিমা তৈরি হওয়ায় দর্শনার্থীরা এখানে এসে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। দুটি মণ্ডপই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।”

তবে শতবর্ষী মন্দিরটির উন্নয়নে সরকারি সহায়তা না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পুরোনো এই মন্দিরের উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাহাপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, “পূজারিদের অনুদানের মাধ্যমে বিগত ৫২ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমাদের পূজা উদ্‌যাপন হয়ে আসছে। মানুষের আনন্দই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ডুমুরিয়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের সভাপতি টুটুল কুণ্ডু বলেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ২২৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রুদাঘরা ইউনিয়নের খরসংগ মন্দিরে ২০১টি এবং পাশের সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা তৈরি করায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল চন্দ্র বৈরাগী আশা প্রকাশ করে বলেন, ডুমুরিয়ার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, পূজাকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উৎসবের দিনগুলো সবার আনন্দে কাটবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ডুমুরিয়ার দুই মণ্ডপে ৩৫৩ প্রতিমা, দুর্গোৎসব ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ

ডুমুরিয়ার দুই মণ্ডপে ৩৫৩ প্রতিমা, দুর্গোৎসব ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ

আপডেটের সময়: ০৯:০৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের পাশাপাশি দুটি গ্রামে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে ৩৫৩টি প্রতিমা। মাত্র আধা কিলোমিটারের ব্যবধানে অবস্থিত দুটি মণ্ডপে বিপুলসংখ্যক প্রতিমা নির্মাণকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রুদাঘরা ইউনিয়নের খরসংগ গ্রামের শতবর্ষী খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে তৈরি করা হয়েছে ২০১টি প্রতিমা। অন্যদিকে, ওই মন্দির থেকে আধা কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে মিকশিমিল বাজারসংলগ্ন খরসংগ মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে তৈরি করা হয়েছে ১৫২টি প্রতিমা। এ মন্দিরে এবার ৫২তম দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হচ্ছে।

দুটি মণ্ডপে প্রতিমার সংখ্যা ও পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। প্রতিমা দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন।

গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, আলোকসজ্জিত মণ্ডপে প্রতিমাশিল্পীরা রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত। প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

সেখানে উপস্থিত স্কুলশিক্ষার্থী তৃপ্তি রায়, চৈতি রায় ও তপতি চৌধুরী জানায়, স্কুলে যাওয়ার আগেই তারা দুই মন্দিরের প্রতিমা দেখতে এসেছে। সাহাপাড়া মন্দিরের প্রবেশপথে বড় হনুমান এবং রাম-লক্ষ্মণ-সীতার প্রতিমা তাদের ভালো লেগেছে। অন্যদিকে, খরসংগ মন্দিরের বকাসুর বধ ও গোপাল ভাঁড়-মন্ত্রীসহ বিভিন্ন চরিত্রের প্রতিমাও তাদের আকৃষ্ট করেছে।

জানা গেছে, গত চার মাস ধরে মন্দির দুটিতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। সাতক্ষীরার ঘোষনগর গ্রামের প্রতিমাশিল্পী শিমুল দাস (৩৫) সাড়ে তিন লাখ টাকা পারিশ্রমিকে সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রতিমাশিল্পী অভিলাষ মণ্ডল (৩০) একই পরিমাণ পারিশ্রমিকে খরসংগ মন্দিরে তৈরি করেছেন ২০১টি প্রতিমা। এখনো রং করার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনির বিভিন্ন ঘটনা প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপ দুটিতে। সাহাপাড়া মন্দিরে মা দুর্গার নয়টি রূপ, রথযাত্রা, রাম-সীতা, ভগীরথের সাত পুত্রের পুনর্জন্ম, রক্তবীজ, মা কালীর বিভিন্ন কাহিনি, শিব, সরস্বতী, শ্রীকৃষ্ণ ও বড় হনুমানের প্রতিমা স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, খরসংগ মন্দিরে ভীষ্মের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের অস্ত্র ধারণ, দক্ষযজ্ঞ, সত্যবানের মৃত্যু, ভীষ্মের রাক্ষস বধ, অর্জুন ও নাগকন্যা, রাজা হরিশচন্দ্রের শ্মশানঘাট, ভগীরথের গঙ্গা আনয়ন, শ্রীকৃষ্ণের বকাসুর বধ এবং রামের সীতা উদ্ধারের মতো পৌরাণিক ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে।

খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার বলেন, “বিষয়টিকে প্রতিযোগিতা বা হিংসার দৃষ্টিতে দেখার কিছু নেই। বরং একই ইউনিয়নের কাছাকাছি দুটি মণ্ডপে এত বেশি প্রতিমা তৈরি হওয়ায় দর্শনার্থীরা এখানে এসে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। দুটি মণ্ডপই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।”

তবে শতবর্ষী মন্দিরটির উন্নয়নে সরকারি সহায়তা না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পুরোনো এই মন্দিরের উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাহাপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, “পূজারিদের অনুদানের মাধ্যমে বিগত ৫২ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমাদের পূজা উদ্‌যাপন হয়ে আসছে। মানুষের আনন্দই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ডুমুরিয়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের সভাপতি টুটুল কুণ্ডু বলেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ২২৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রুদাঘরা ইউনিয়নের খরসংগ মন্দিরে ২০১টি এবং পাশের সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা তৈরি করায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল চন্দ্র বৈরাগী আশা প্রকাশ করে বলেন, ডুমুরিয়ার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, পূজাকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উৎসবের দিনগুলো সবার আনন্দে কাটবে।